গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে

ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার জ্বালানি কেন্দ্র নভোরোসিস্কের একটি ডিপোতে আঘাত হেনেছে।

ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার জ্বালানি কেন্দ্র নভোরোসিস্কের একটি ডিপোতে আঘাত হেনেছে। এরপর বন্দরটি জ্বালানি তেল রফতানি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। এর প্রভাবে গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিনে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি। এছাড়া গত সপ্তাহজুড়েও তা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গত শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৩৮ সেন্ট বা ২ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য নেমেছে ৬৪ ডলার ৩৯ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম পৌঁছে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার ৯ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ ডলার ৪০ সেন্ট বা ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ১ দশমিক ২ ও দশমিক ৬।

রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবারের ওই হামলায় বন্দরে থাকা একটি জাহাজ, আবাসিক ভবন এবং একটি জ্বালানি তেলের ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া জাহাজের ক্রুদের মধ্যে তিনজন আহত হয়েছেন।

প্রাইস ফিউচার্স গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক ফিল ফ্লিন বলেন, ‘‌রুশ টার্মিনালে আঘাতটি বড় ধরনের এবং আগের হামলাগুলোর তুলনায় এর প্রভাব বেশি বলে মনে হচ্ছে।’

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, হামলার পর রাশিয়ার নভোরোসিস্ক বন্দর দৈনিক ২২ লাখ ব্যারেল বা বৈশ্বিক সরবরাহের ২ শতাংশ সমপরিমাণ জ্বালানি তেল রফতানি স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে রুশ পাইপলাইন অপারেটর ট্রান্সনেফটও ওই টার্মিনালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ করেছে।

ইউবিএসের কমোডিটি অ্যানালিস্ট জিওভানি স্তাওনোভো বলেন, ‘‌হামলার তীব্রতা বেড়েছে। আগের তুলনায় ঘনঘন আক্রমণ ঘটছে। এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন তৈরি করবে, এমন কিছুতেও আঘাত হানতে পারে।’

ইউক্রেন জানিয়েছে, দেশটি শুক্রবার ভোরে রাশিয়ার সারাতভ অঞ্চলের একটি জ্বালানি তেল শোধনাগার এবং কাছের এঙ্গেলস এলাকার একটি জ্বালানি মজুদ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সর্বশেষ এসব হামলা রুশ সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে রুশ তেল বাণিজ্যের ধারা কীভাবে বদলাচ্ছে, তা বিনিয়োগকারীরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

ব্রিটেন শুক্রবার একটি বিশেষ লাইসেন্স দিয়ে জানিয়েছে, তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ তেল কোম্পানি লুকঅয়েলের বুলগেরিয়াভিত্তিক দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যেতে কোম্পানিগুলোকে অনুমতি দিচ্ছে। বুলগেরিয়া সরকার এরই মধ্যে ওই সম্পদগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২১ নভেম্বরের পর লুকঅয়েল ও রসনেফটের সঙ্গে যেকোনো জ্বালানি তেল বাণিজ্য নিষিদ্ধ করছে। জেপিমরগ্যান বৃহস্পতিবার জানায়, রাশিয়ার দৈনিক ১৪ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল, যা দেশটির সমুদ্রপথে রফতানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ—নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে ট্যাংকারে মজুদ অবস্থায় রয়েছে। কারণ এসব কার্গোর খালাস প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে। ব্যাংকটি সতর্ক করে জানায়, ২১ নভেম্বরের পর এসব কার্গো খালাস আরো কঠিন হতে পারে।

আরও